খুশির খবর শুনেই 'হার্ট ফেল'! ব্যাপারটা কি?
"অতিরিক্ত দুঃখে হার্ট ভেঙে যেতে পারে"—এ কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু জানেন কি, অতিরিক্ত আনন্দও কখনও কখনও হৃদযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে? ভাবুন তো, বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। লটারিতে কোটি টাকা জিতেছেন, সন্তানের বড় সাফল্যের খবর পেলেন, কিংবা বহু বছর পর প্রিয়জন ফিরে এসেছেন। আনন্দে চোখে জল, বুক ধড়ফড় করছে। ঠিক সেই সময়ই যদি বুকে ব্যথা শুরু হয়? অবাক লাগলেও, এমন ঘটনাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত 'হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম' নামে।
এটি আসলে Takotsubo Cardiomyopathy-এরই একটি রূপ, যেখানে প্রবল আবেগ—বিশেষ করে হঠাৎ অত্যধিক আনন্দ—হৃদপেশিকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে। এর ফলে রোগীর উপসর্গ অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মতোই হয়।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
হঠাৎ তীব্র বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু দুঃখ নয়, অস্বাভাবিক আনন্দের পরেও এমন উপসর্গ হলে তা কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই তীব্র মানসিক বা আবেগজনিত ধাক্কা এর কারণ হতে পারে।
এটি কি প্রাণঘাতী?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে চিকিৎসায় দেরি হলে হার্ট ফেলিওর, অনিয়মিত হার্টবিট বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।
আনন্দও হোক সচেতনতার সঙ্গে
জীবনে সুখের মুহূর্ত আসুক বারবার—সেটাই কাম্য। কিন্তু যদি হঠাৎ অতিরিক্ত উত্তেজনা বা আনন্দের পর বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তাহলে সেটিকে "উত্তেজনার প্রভাব" ভেবে অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, হৃদয় শুধু দুঃখে নয়—কখনও কখনও অতিরিক্ত আনন্দেও বিপদে পড়তে পারে। তাই সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।





